ইরানে ট্রাম্পের হামলার ক্ষমতা খর্বের প্রস্তাব নাকচ, পক্ষে–বিপক্ষে কে কী বলছেন

Uncategorized

ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা খর্বের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত এক প্রস্তাব গতকাল শুক্রবার নাকচ করে দিয়েছে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেট। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানে আবারও বোমাবর্ষণের কথা বিবেচনা করছেন।ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাইলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয় এ প্রস্তাবে। কিন্তু ৫৩-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।ভোটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হলেও ব্যতিক্রম ছিলেন দুজন। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান রিপাবলিকানদের সঙ্গে মিলে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, আর কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে।প্রস্তাবের প্রধান উদ্যোক্তা সিনেটর টিম কেইন কয়েক বছর ধরেই রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে কাজ করে আসছেন।ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের একটি বিধ্বস্ত ভবন। মধ্য ইসরায়েল, ১৫ জুন, ২০২৫ছবি: রয়টার্সভোটাভুটির আগে দেওয়া এক বক্তব্যে কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী শুধু কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণার একক অধিকার রয়েছে—এ কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই তাঁর এ উদ্যোগ। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো বৈরিতায় জড়াতে হলে কংগ্রেসের যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন।আপনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পক্ষে হোন বা বিপক্ষে, যদি মনে করেন, প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া উচিত, তবে আপনি সিনেটের যৌথ প্রস্তাব ৫৯-এর পক্ষে থাকবেন। কারণ, এটাই হলো সেই সংবিধানকে সমর্থন করা, যা বহু বছর ধরে টিকে আছে,’ বলেন কেইন।ভোটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হলেও ব্যতিক্রম ছিলেন দুজন। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান রিপাবলিকানদের সঙ্গে মিলে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, আর কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে।কংগ্রেস সদস্যরা সম্প্রতি ইরানে মার্কিন হামলা ও ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে আরও তথ্য জানার জন্য চাপ দিচ্ছেন।গতকালই ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরিকল্পনা থেকে তিনি সরে এসেছেন। এ ছাড়া তিনি বলেন, যদি ইরান উদ্বেগজনক মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে, তবে তিনি আবারও দেশটিতে বোমাবর্ষণের কথা বিবেচনা করবেন।এ প্রস্তাব ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্টকে তাত্ক্ষণিক সংকটে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। একটি সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জীবন যখন ঝুঁকিতে, তখন আমাদের প্রেসিডেন্টকে বাধা দেওয়া উচিত নয়।বিল হ্যাগার্টি, টেনেসির রিপাবলিকান সিনেটরট্রাম্প এ প্রতিক্রিয়া জানান খামেনির এক বক্তব্যের পর, যা ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিন ধরে চলা সংঘাত শেষে দেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং পরে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এ সংঘাত শেষ হয়।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ঠেকানোর ক্ষমতা কমল নিম্ন আদালতের

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ঠেকানোর 
ক্ষমতা কমল নিম্ন আদালতের

‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল বৃহস্পতিবার ও গতকাল সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের ওই হামলা নিয়ে গোপন ব্রিফিং দেয়। অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রিফিং শেষে বলেছেন, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে—এমন তথ্য তাঁদের বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *