৫২ ঘন্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ছাড়লেন শ্রমিকরা

চট্টগ্রাম ঢাকা নিত্য তথ্য

নিত্য অনলাইন ডেস্কঃ

বকেয়া বেতন পরিশোধে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ৫২ ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেছে টিএনজেড গ্রুপের শ্রমিকেরা। সোমবার দুপুরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে প্রথমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে আলোচনা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে মুঠোফোনে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে রাস্তা থেকে সরে যান পোশাক শ্রমিকরা। বকেয়া বেতন না পেলে আবারও বিক্ষোভের কথা জানান তারা।


বিষয়টি সমাধানে শ্রমিক প্রতিনিধিদের মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদ মিয়া জানিয়েছেন, আগামী রোববার বেতনের ৬ কোটি টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব।

 

এরআগে তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর মালিকের বাড়ি এলাকার টিএনজেড অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ওই গ্রুপের ৫টি কারখানার প্রায় তিন হাজার শ্রমিক।

গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া শ্রমিকদের আন্দোলন তৃতীয় দিনের মতো আজ সকালেও অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ আশপাশের ১২টি কারখানা বন্ধ রাখা হয়।

আজ দুপুরে সেনা সদস্যরা এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বকেয়া বেতন না পেলে সড়ক ছাড়বে না বলে জানিয়ে দেন শ্রমিকরা। গাজীপুর সদরের ইউএনও’র মাধ্যমে টেলিফোনে শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব কথা বলেন। তাতেও তারা প্রথমে সন্তুষ্ট হয়নি, তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে বললেও রাজি হয়নি। পরে শ্রমিকরা শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবের কথা মেনে নেয়।

টঙ্গী শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‌‌‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে ব্রিফ করেছেন। সেখানে সদরের ইউএনও, সেনাবাহিনী, মেট্রোপলিটন কমিশনার, শিল্প পুলিশ ও সকল শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন সরকার দায়িত্ব নিয়ে আগামী রবিবারের মধ্যে ৬ কোটি টাকা অনুদান হিসাবে দিবে। শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি ও পাওনা কিভাবে, কবে পরিশোধ করা হবে তা আলোচনার জন্য শ্রমিকদের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের পাওনা পরিশোধ করে দিবে। তিনি অনুরোধ করেছেন রাস্তা ছেড়ে দিতে। শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *