
নিত্য নিউজ ডেস্কঃ ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ায় ভারতসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলো আবারও ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে।ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মেটাতে’ ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নেওয়ার পর আজ শনিবার ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।ভারতের তিনটি রিফাইনারি (তেল শোধনাগার) সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) জানিয়েছে, ২০ মার্চ বা এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন ইরানি তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এ সুবিধার আওতায় পড়বে। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন (১৭ কোটি) ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে।অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩–১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জেরে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীন দেশটির প্রধান গ্রাহক হয়ে ওঠে।কেপলারের তথ্যমতে, গত বছর চীনের শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিকাংশ দেশ ইরানি তেল কেনা বন্ধ রাখলেও চীন বড় ছাড়ে এ তেল কিনে আসছিল।
