ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। বুধবার পর্যন্ত চার দিনে আট পর্বের সংলাপে ৪৯টি নিবন্ধিত দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণ পেলেও সংলাপে আসেনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও তৃণমূল বিএনপি। বাকি ৪৭টি দলকে নিয়ে সংলাপ শেষ করেছে ইসি। প্রতিদিন সকাল ও দুপুরে দুই পর্বে সংলাপ হয়।
দলগুলো হলো—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশন ও গণতন্ত্রী পার্টি। অবশ্য ১৪ দলের শরিক হওয়া সত্ত্বেও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এরই মধ্যে ইসির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সংলাপ করে এসেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অংশিজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সুশীল সমাজ, শিক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং নারী নেতারাসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। তবে নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিলম্বের কারণে আটকে ছিল কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ। নতুন দলের নিবন্ধনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার পর ১৩ নভেম্বর থেকে দলগুলোর সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে চারদিনে মোট ৪৮টি দলকে আলোচনায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি না আসায় বাকি ৪৭টি দলকে নিয়ে সংলাপ শেষ করেছে ইসি।
কেন এই অনীহা: ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। বিভিন্ন দলের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি থেকে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। সে সময় থেকেই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলো ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল শরিকদেরও রাজনৈতিক নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের দাবি তোলে। জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদসহ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলো এ দাবি জানিয়ে আসছে। কয়েকটি দল তাদের ইসির সংলাপে না ডাকার দাবিতে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি তাদের সংলাপে ডাকার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে। দলগুলো অবশ্য প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকসহ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার বিষয়ক আলোচনায়ও ডাক পায়নি।
ইসি সূত্র বলছে, নিবন্ধিত সবগুলো দলকেই সংলাপে ডাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির মুখে সে অবস্থান থেকে সরে আসে কমিশন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ওই দলগুলোর কাছ থেকে কোনো মতামত নেওয়ার ‘আপাতত’ কোনো প্রয়োজন দেখছে না। সেটা হলে ৪৮ দলকে নিয়েই শেষ হতে পারে এবারের সংলাপ।
সংলাপে কারা ছিল: ইসির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ১৩ নভেম্বর সংলাপে অংশ নেয়- লিবারেল ডেমক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম- এই ১২টি দল

