বগুড়ায় আরডিএ উদ্যোগে রানী মৌমাছির প্রজনন কেন্দ্রের উদ্বোধন

জাতীয়

 নিউজ নিউজ  ডেস্কঃ রানী মৌমাছির অভাবে একদিকে যেমন দিন দিন মৌমাছির জন্মহার ও মধু উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে পরাগায়ন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করছে। ফলে ফসল ও  ফল ফুলের উৎপাদন কমছে ।  এ অবস্থায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি   জলবায়ু সহনশীল রানী মৌমাছির প্রজনন কেন্দ্র” স্থাপনের উদ্যোগ  নিয়েছে।  ১ জানুয়ারি মঙ্গলবার  সিরাজগঞ্জের তারাশে  রানী মৌমাছির প্রজনন কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।  এই প্রজনন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যেমে মৌচাষ উন্নয়ন, মধু উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ড. এ. বি. এম. মাহবুব আলম। এসময় তিনি বলেন, মৌচাষ বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। পরিকল্পিতভাবে রানী মৌমাছির উন্নয়ন ও প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে শুধু মধু উৎপাদনই নয়, মৌচাষকে একটি টেকসই ও বহুমুখী জীবিকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে মৌচাষী, ব্যবসায়ী, তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আরডিএ’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন ও একাডেমির বিভিন্ন অনুষদের সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে মানসম্মত রানী মৌমাছির অভাবে মৌকলোনির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। ইনব্রিডিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রানী মৌমাছির ডিম উৎপাদন ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক মৌচাষ খাতের জন্য উদ্বেগজনক। নতুন স্থাপিত এই প্রজনন কেন্দ্রে গবেষণাভিত্তিক ক্রস-ব্রিডিং পদ্ধতির মাধ্যমে উন্নত ও জলবায়ু সহনশীল রানী ও ড্রোন মৌমাছি উৎপাদন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এর ফলে মৌচাষে মধু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পোলেন, প্রপলিস, রয়্যাল জেলি, মোম ও মৌবিষ (বি-ভেনম)–এর মতো উচ্চমূল্যের মৌভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌচাষ শুধু মধু উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পোলেন, প্রপলিস, রয়্যাল জেলি ও বি-ভেনম খাদ্য, ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। তবে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং উপযুক্ত সরঞ্জামের অভাবে বাংলাদেশে এখনো এসব সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার সম্ভব  হয়নি। আরডিএ’র এই গবেষণা উদ্যোগ মৌচাষকে একটি বহুমুখী ও উচ্চমূল্যসম্পন্ন উৎপাদন খাতে রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই গবেষণা কার্যক্রমে গবেষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন আরডিএ’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, উপপরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক অন্তরা খাতুন এবং মৌচাষ বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল আলিম ভূইয়া। উল্লেখ্য, দেশে  প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন মধুর চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩০–৪০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হয়। যার বাজার মুল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *