নিত্য নিউজ প্রতিবেদকঃ
বগুড়ায় আলুর কেজি ৮ থেকে ১০ টাকা। যা দিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এর উপর হিমাগার গুলোতে সংরক্ষন খরচ বাড়ানো হয়েছে। এতে করে কৃষক একদিকে হিমাগারে আলু রাখতে পারছেন না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বিনা কারনে সংরক্ষন খরচ বাড়ানোয় ভোক্তারা মৌসুম শেষে কম দামে আলু কিনতে পারবেন না। হিমাগার মালিকদের যুক্তি বিদ্যুৎ বিল এ্যমোনিয়া গ্যাসের দামসহ আনুসংগিক খরচ বাড়ায় সংরক্ষন খরচ বেড়েছে।

ধোয়া- মোছা, রং মেরামত করে বগুড়ার হিমাগারগুলোকে আসন্ন আলু সংরক্ষন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি হিমাগাড়ে মূল ফটোকে ঝুলানো হয়েছে বাড়তি দামের ব্যানাঢ। এখন থেকে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষন করতে লাগবে ৮ টাকা। এবার আলুর দাম কম থাকলেও হিমাগার খরচ দিয়ে মৌসুম শেষে ভোক্তাদের তুলনামূলক বেশী দামে আলু কিনতে হবে এমন আশংকা ব্যবসায়ীদের।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে এবার প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। তবে কৃষক বলছে আরো বেশী। কিন্ত বর্তমানে ৮ থেকে ১০ টাকা আলু বিক্রি করে লোকসান যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা। এতে করে প্রতিবিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ লোকসান কমে আনতে বড় কৃষক কিছু আলু হিমাগারে রেখে পুষিয়ে নিতো তবে এবার সেটিও পারছেন না ।
হিমারগারগুলোর বিপরীতে ব্যাংক ঋনের সুদহার বৃদ্ধি, রক্ষনাবেক্ষন ও লেবার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় হিসাব মতে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষনের খরচ পড়ে ৯ টাকা ৬২ পয়সা। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স এসোসিয়েশন এবার প্রতিকেজি আলু সংরক্ষনে খরচ ধরেছে ৮ টাকা। হিমাগার মালিক এ মূল্যেই আলু রাখতে চান। তবে স্থানীয় হিমাগার কর্মকর্তাগন বলছেন এ সিদ্ধান্ত হয়তো পুরোপুরি নাও হতে পারে।
বগুড়া জেলা হিমাগার মালিক সমিতি সভাপতি হোসনে আরা বেগম বলেন হিমাগারের সব জিনিষপত্র কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হিমাগার মালিকদের সবার সিদ্ধান্ত নিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।
বগুড়া জেলায় এবার ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। এ জেলাতে আলু সংরক্ষনে হিমাগার রয়েছে ৪২টি। যেখানেসংরক্ষন করা যাবে সাড়ে ৩ লাম মেট্রিক টন।
