ছাত্র জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে গত পনেরো বছরে অন্যায় অত্যাচার এবং আন্দোলনে নিহত আহতদের স্বজনরা বিভিন্ন থানা এবং কোর্টে মামলা করেন। বগুড়াতেও একাধিক মামলা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ৫ আগষ্ট থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বগুড়া জেলায় মামলার সংখ্যা ৪৬টি। এজাহার নামীয় আসামীর সংখ্যা ৩ হাজার ১শ ৪৫ জন এবং অজ্ঞাত সংখ্যা ৫ হাজারের বেশী। বগুড়ায় যেসব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশ মামলার প্রধান আসামী সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বোন শেখ রেহেনা, শেখ হাসিনার পুত্র ও কন্যা, শেখ রেহেনার পুত্র ববি সহ তার আতœীয় স্বজন। এছাড়া মামলা গুলোতে আসামী হয়েছেন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রী ওবাইদুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ সহ দুই ডজন মন্ত্রী। রয়েছেনপুলিশের সাবেক আইজি বেনজির আহম্মেদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, সিআইডির সাবেক কর্মকর্তা কাহার আকন্দ, বগুড়া পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীসহ ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আকবর ছোবাহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনভীর আকবর ছোবাহান,বগুড়া চেম্বারের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মিলন, সহসভাপতি মাহফুজুর ইসলাম রাজ সহ প্রায় স্থানীয় ৫০ ব্যবসায়ী নেতা। সংবাদিকদের মধ্যে ৭১ টিভির মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহম্মেদ, ফারজানা রুপা, বগুড়ার ইনডিপেনডেন্ট টিভির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান হাসিবুর রহমান বিলু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন , সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা রউফ, আকতারুজ্জামন, আমজাদ হোসেন মিন্টু সহ ১৫ জন।
এছাড়া স্থানীয় আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্য, রাগিবুল আহসান রিপু, মজিবুর রহমান মজনু,সাহাদারা মান্নান, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, সতন্ত্র রেজাউল করিম বাবলু ও আওয়ামীলীগের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটির সহ¯্রাধিক নেতা কর্মি রয়েছেন। রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান।
মামলাগুলি এখন তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার স্বর্তে আওয়ামীলগের একাধিক নেতা নিত্য নিউজকে বলেছেন অধিকাংশ মামলাগুলি সাজানো। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিস্কৃতি পেতে চান। অপরাধীদের শাস্তি হোক এটিও তাদের চাওয়া।
