ভোরের আলো ফুটতেই দেখা যায় মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে ২৮৪টি মহিষ। কালো দেহ আর শিং তুলে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণীগুলো দেখে অবাক হন স্থানীয় লোকজন। চারপাশে গুঞ্জন—কে আনল এত মহিষ? কোথা থেকে এল? উদ্দেশ্যই বা কী?৪ জুলাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের কালীরচরে ঘটে এ ঘটনা। ওই দিন বেলা গড়াতেই মহিষের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। কারা এসব মহিষের মালিক—এ নিয়ে কৌতূহল দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত মহিষের মালিক কে, তা নির্ধারণ করতে তিন সদস্যের কমিটি করতে হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মহিষগুলো রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিষগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।সন্দ্বীপে মহিষ আনার খবর শুনে নোয়াখালী, হাতিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে লোকজন আসতে থাকেন। তাঁদের অনেকেরই মহিষ হারিয়েছে অথবা চুরি হয়েছে। এ নিয়েই মূলত বিপত্তি তৈরি হয়। তবে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ দাবি করেন, এসব মহিষ পলাতক কোনো আওয়ামী লীগ নেতার।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব মহিষ এসেছে সন্দ্বীপের দ্বীপ ইউনিয়ন উড়িরচর থেকে। মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করেছেন উড়িরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আবদুর রহিম ও তাঁর বোনের পরিবার। তবে তাঁদের এই দাবির পরেও বিতর্ক থামেনি। মহিষগুলো বর্তমানে রাখা হয়েছে সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান তাছলিমা বেগমের জিম্মায়।
যেভাবে এসেছে মহিষ
মহিষগুলো কবে, কীভাবে, কোথা থেকে আনা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা জানান, ৩ জুলাই বিকেল পাঁচটার দিকে উড়িরচরের পূর্ব উপকূলের একটি খাল থেকে তিনটি বাল্কহেডে (নৌযান) মহিষ তোলা হয়েছিল। রহিম চেয়ারম্যানের ছেলে আজিম নিজে উপস্থিত থেকে মহিষগুলো তুলেছেন। স্থানীয় বাথানেরাও (মহিষের খামারের মালিক) বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন। বাল্কহেডগুলোর একটির চালক মো. উসমান। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে উড়িরচর থেকে গবাদিপশু ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করছেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহিষগুলো স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের। ওই দিন রাতে সাগরে ভাটা থাকায় ভাসানচরের কাছে আমরা নোঙর করেছিলাম। পরে ভোরে জোয়ার এলে সন্দ্বীপের দক্ষিণাংশের কালীরচরে মহিষগুলো নামিয়ে দিই।’উসমানের দেওয়া তথ্যমতে, মহিষ সন্দ্বীপে নামানোর সময় মো. রিয়াদ ও মো. হেলাল নামের দুজন সঙ্গে ছিলেন। এ দুজন সম্পর্কে আবদুর রহিমের ভাগনে। তাঁরাই মহিষের দেখাশোনার কাজ করেন। জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘চাষের মৌসুম শুরু হওয়ায় উড়িরচরে মহিষ চরানোর জায়গা কমে গেছে। তাই সন্দ্বীপে চারণভূমি ব্যবহার করছি। আশ্বিন মাসে আবার মহিষগুলো উড়িরচরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’
