সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা কয়েকটি বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আগের মতোই উদ্বেগ জানিয়েছি। কাজটা ঠিকমতো হয় নাই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব দিতে হবে।’ তিনি বলেন, আচরণবিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় নিয়েও সিইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। তাই তার দলের দাবি, সব দলের প্রতীক দিয়ে নয়— শুধু সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের প্রতীক দিয়ে পোস্টাল ব্যালট ছাপানো উচিত। এ ছাড়া ভোটার স্লিপে প্রার্থী ও দলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে ১৬০টি ব্যালট দেখা গেছে। কোনো খাম খোলা হয়নি। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি দেখছেন। পোস্টাল ব্যালট বিতরণে কোনো পদ্ধতিগত ব্যতিক্রম হয়েছে কি না, তা বাহরাইন পোস্ট তদন্ত করে জানাবে।’ ইসি সচিব আরও বলেন, ‘পোস্টাল ভোটের ব্যালট পাওয়ার আনন্দে কেউ ভিডিওটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছেন। তবে এটি করা উচিত হয়নি।’
আখতার আহমেদ জানান, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পোস্টাল ব্যালট পাঠায়। দেশভেদে ডাকব্যবস্থার ধরন ভিন্ন। বাহরাইনের ক্ষেত্রে একই এলাকায় বসবাসরত ভোটারদের জন্য ১৬০টি ব্যালট একটি বক্সে রাখা হয়েছিল। পরে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি সেগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় ভিডিও ধারণ করেন।
ইসি সূত্রে জানানো হয়, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাহরাইন পোস্টকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিন তদন্ত করে জানাবে, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না। এদিকে নির্বাচন কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবিলীকৃত ১২৯টি ব্যালট খাম বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাহরাইন পোস্টের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এগুলো আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় কোনো খাম খোলা হয়নি এবং ভোটার তথ্যের গোপনীয়তাও লঙ্ঘিত হয়নি।

