আজ সকালে দেখা গেছে, মেয়েদের হল থেকে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ছেলেদের হল থেকেও শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছেন, তবে অনেকে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন। কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ করে হল ছাড়ার নির্দেশের কারণে তারা সমস্যায় পড়েছেন, কারণ টিউশন, চাকরি ও অন্যান্য দায়িত্ব রয়েছে।
শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ বলছেন, বাধ্যতামূলক হল ত্যাগের নির্দেশ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আবার কেউ মনে করছেন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্মচারীদের ভবন দখলে নিয়েছিলেন, প্রশাসন সম্ভবত সেই কারণে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে অনেক শিক্ষার্থী প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থনও দিয়েছেন। তারা বলেন, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হলে থাকা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করে, তাই বাইরে থাকা নিরাপদ।গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরদিন আরও অন্তত ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গত রাতে আতঙ্কিত হয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা বাইরে বের হয়েছিলেন। ওই সময় কয়েকজন ছাত্রী ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ আক্রান্ত হয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলে থাকার চেয়ে বাইরে থাকা নিরাপদ। সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদও জানিয়েছেন, তিনি এখনো ঠিক করেননি হল ছাড়বেন কি না।
গতকাল রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন তিন দফা দাবিতে। তারা চেয়েছিলেন, বাধ্যতামূলক হল বন্ধের ঘোষণা স্থগিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা, এবং শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা টাওয়ারে স্থানান্তর করা। তবে আজ সকালে তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।