ইরানের দুর্গম আন্ডারগ্রাউন্ড পারমানবিক কেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলার ছক আমেরিকার: পাল্টা জবাবে প্রস্তুত ইরান।

Uncategorized

নিত্য নিউজ ডেস্ক:
ইস.রায়েলকে লক্ষ্য করে এবার হাইপারসনিক ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। সেই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়া.তুল্লাহ খা.মেনি সতর্কতা জারি করে বলেছেন, ইস.রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল শুরু ।

অপরদিকে ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলার মহড়া চালিয়েছে আমেরিকা ।

আজ ভোররাতে পূর্ব ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্স লেকেনহিথ থেকে আমেরিকার অন্তত চারটি এফ-৩৫ বিমান ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এখন শুধু সময়েরে অপেক্ষা। যেকোন সময় ইরানের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় ৩শ ফুট মাটির গভীরে স্থাপিত ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলা চালাতে পারে আমেরিকা।

ইরানের পাহাড় কেটে মাটির প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নির্মিত এই স্থাপনাটি এমনভাবে সুরক্ষিত যে, ইসরায়েলের বিদ্যমান কোনো অস্ত্র দিয়েই সেটিকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ৩০ হাজার পাউন্ড তথা ১৩ হাজার ৬০৭ কেজি ওজনের ‘জিবিইউ-৫৭এ/বি’ নামের বাংকার বাস্টার বোমাই এই ঘাঁটির গভীরে প্রবেশ করে এটি ধ্বংস করতে পারবে।

ইস.রায়েল যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো একের পর এক ধ্বংসের দাবি করছে, তখনও অটলভাবে টিকে আছে তেহরানের দুর্গ-ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনা। এটিই এখন ইস.রায়েলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকাও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। এখনই ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলা চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠজনকে বলেছেন, তিনি এখন ইসরায়েলের আগের অনুরোধ অর্থাৎ ফোরদোর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটি ধ্বংসের জন্য মার্কিন ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা সরবরাহ করার দিকে আরো গভীরভাবে ঝুঁকছেন।

এটি একটি বড় ধাপ, যার অর্থ হতে পারে সরাসরি মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা। আর সেটা শুরুই হতে পারে বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলার মধ্য দিয়ে।

বাঙ্কার বাস্টার বোমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য আন্ডারগ্রাউন্ড পারমাণবিক গবেষণাগার, কমান্ড সেন্টার, মিসাইল সাইলো, বাঙ্কার বা ফোর্টিফায়েড সামরিক ঘাঁটি, গোপন টানেল ও অস্ত্রভাণ্ডার।

স্টিল-পেনিট্রেটিং বম্ব’ নামেও পরিচিত এই অস্ত্র শুধু প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ধ্বংসের জন্য নয়, মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্যও ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইস.রায়েল, রাশিয়া, চীনসহ বেশ কয়েকটি সামরিক শক্তিধর দেশের কাছে উন্নত মানের বাঙ্কার বাস্টার বোমা রয়েছে।

বাঙ্কার বাস্টার একধরনের বিশেষ ডিজাইন করা বোমা, যা সাধারণ মাটি বা শক্ত কংক্রিটের স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুর গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম। ভেতরে গিয়ে নির্দিষ্ট গভীরতায় বিস্ফোরিত হয়ে প্রবল ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

বাঙ্কার বাস্টার বোমার আবরণ অত্যন্ত শক্তিশালী। যা সাধারণ স্টিলের চেয়ে বেশি দৃঢ় ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। যাতে প্রবেশের সময় ছিন্নভিন্ন না হয়ে যায়।

লক্ষ্যমাত্রার গভীরতায় পৌঁছানোর পর টাইমার বা সেন্সর-নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে ভূগর্ভস্থ বা প্রতিরক্ষিত কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে।
……….লেখক: এফ শাহজাহান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *