নিত্য নিউজ ডেস্ক :
সোমবার সকালে এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন বেবী। তিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান বাংলাদেশ এ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি বগুড়া জেলা শাখা সংগঠনের যাত্রালগ্ন থেকেই সেবামুলক কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে যখন স্ত্রী তার স্বামীর লাশ ফেলে চলে গেছেন, পুত্র তার বাবার লাশ ধরতে ভয় করেছেন, স্বামী তার বউয়ের লাশে হাত দেননি, বাবা তার সন্তানের লাশ কাঁধে তুলতে ভয় পেয়েছেন। সেই কঠিন সময়ে সাধারন জনগনের পাশে থেকেছে সংগঠনটি। এছাড়াও ৯৯৯ নাইনে ফোন করলে দ্রুত রোগীর কাছে পৌছে তাদেরকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন জনসেবামুলক কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু লক্ষ্য করা য্চ্ছে যে এই সংগঠনকে কলুষিত করতে একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। গত রোববার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শিরোনামে বগুড়ার থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আলিমান হাকিম খোকা যে অভিযোগটি করেছেন তা পুরোপুরি মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিমুলক ও স্বেচ্ছাচারিতা বহন করে। সংবাদ সম্মলন থেকে ওই মিথ্যা ও দুরভিসন্ধিমুলক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে খোকা একজন ঠিকাদার ও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয় বলে প্রথমেই মিথ্যাচার করে গেছেন। কিন্তু সে সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে
জড়িত, এ সংক্রান্ত একাধিক প্রমানাদি তার ফেসবুক প্রোফাইলে রয়েছে, এছাড়াও জুলাই গনঅভ্যূত্থানের ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার ১২৬নং আসামীসহ একাধিক মামলার আসামী। একটি মামলার বাদী শহরের কৈগাড়ীর মাহবুবুর রহমান। ফ্যাসিষ্ট সরকারের সময় এই খোকা সিলিমপুর মেডিকেল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তুচ্ছ ঘটনায় যাকে তাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। তেমনি একটি ঘটনা গত ২৯/৩/২৫ ইং তারিখে মেডিকেল এর সামনে অবস্থিত একটি প্লাস্টিকের দোকানে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় এবং ওই দোকানের ব্যবসায়ীকে খুন করার হুমকি প্রদান করে। কিভাবে আওয়ামী ফাসিস্টের হাতে সরকারী বৈধ অস্ত্র থাকে আমরা তা জানতে চাই। কথায় কথায় অস্ত্রের মহড়া প্রদান করে। আমরা তার অস্ত্র লাইসেন্স বাতিলের জোর দাবী জানাচ্ছি। তিনি ২৫/১/২০২৫ ইং তারিখে উক্ত সমিতির সাধারন সভায় পূর্বের কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে সাধারন সদস্যদের ১২,০০,০০০/= টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তীহীন। তিনি অত্যন্ত কৌশলে সাধারন সম্পাদক বাকিরুল ইসলাম কে রক্ষা করে সম্পূর্ণ দায়ভার সভাপতির উপর চাপিয়েছেন। উপদেষ্টা আলীমান হাকিম খোকা একজন সুচতুর লোক। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর থেকেই তার স্বাভাবিক আচরনে পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি একটি পক্ষকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ছক আকতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সে একক সিদ্ধান্তে আমাদের সমিতির পুরাতন একজন সদস্যকে অন্যায়ভাবে ভোটার থেকে নাম কেটে দেন। শুধু তাই নয় সংগঠনের আহবায়ক কমিটির ১১ জন সদস্য থাকলেও তিনি কারো মতামতের তোয়াক্কা করতেন না। তিনি যে কোন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেছেন যে গত ১৯/০৪/২০২৫ ইং তারিখে সমিতির অফিস কক্ষে তিনি তফসিল ঘোষনা করেছেন।
আসলে এখানেও তিনি মিথ্যাচার করেছেন। তিনি অফিস কক্ষে তফসিল ঘোষনা করেননি। সে তার মতাদর্শের দু একজনকে সাথে নিয়ে সুত্রাপুরস্থ তার নিজস্ব অফিসে এই তফসিল ঘোষনা করেছেন।, তিনি জহুরুল ইসলাম পলাশ সহ তিনিজনকে জড়িয়েও মিথ্যাচার করে গেছেন। সত্য ঘটনা হলো এই পলাশ সহ পদত্যাগকৃত সকল উপদেষ্টারা তার স্বেচ্ছাচারিতা ও দুরভিসন্ধিমুলক ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে উক্ত সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে এই খোকা সাহেব প্রধান উপদেষ্টা থাকাবস্থায় নির্বাচন কোনভাবেই সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে না। তাই তারা নিজেদের মান সম্মান বাজায় রাখার তাগিদে সংগঠন থেকে দুরে সড়ে গেছেন। কিন্তু তাদের জড়িয়ে সেকল কথা বলা হয়েছে তা সম্পূন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদীত। আমরা মনে করছি তিনি তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে ও মান সম্মান ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে নিয়েই তাদেরকে জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংগঠনের ৮জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করার পরেও সে কিভাবে ওই সংগঠনের পদ আগলিয়ে রাখে?, বা ঐ পদে থাকার কোন বৈধতা আছে? এবং সে কিভাবে বাকিদের নিয়েই নির্বাচন করার নীল নকশা আকঁছে? বিষয়টি সুশীল মহল সহ সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।
